Spread the love কলকাতা, ৯ জুন: মেরুদণ্ডজনিত সমস্যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর। সেই লক্ষ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ “প্রিসিশন অ্যাট দ্য কোর” শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে অত্যাধুনিক স্পাইন কেয়ার ও সফল চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. অনিন্দ্য বসু (ক্লিনিক্যাল লিড ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – স্পাইন সার্জারি), ডা. প্রত্যুষ শাহি (অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট – স্পাইন সার্জারি) এবং ডা. সৌরভ ঘোষ (স্পেশালিস্ট সার্জন)। পাশাপাশি চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠা ১০ জন রোগীও তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। চিকিৎসকরা জানান, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে বর্তমানে অত্যাধুনিক O-Arm® 3D Imaging ও Navigation প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেরুদণ্ডের জটিল অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে অস্ত্রোপচারের সময় মেরুদণ্ডের ত্রিমাত্রিক ছবি দেখা যায়, ফলে চিকিৎসা আরও নিখুঁত ও নিরাপদ হয় এবং জটিলতার সম্ভাবনা কমে। এছাড়াও হাসপাতালটি এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। খুব ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই কম কাটা-ছেঁড়ার অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে স্লিপ ডিস্ক, স্পাইনাল স্টেনোসিস এবং স্নায়ুর ওপর চাপজনিত সমস্যার সফল চিকিৎসা করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীদের ব্যথা কম হয়, হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয় এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়। স্কোলিওসিস, কাইফোসিস ও অন্যান্য জটিল মেরুদণ্ড বিকৃতি সংশোধনের ক্ষেত্রেও হাসপাতালটির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয় রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, “গত এক দশকে মেরুদণ্ড অস্ত্রোপচারে বিপ্লব ঘটেছে। O-Arm Navigation ও Endoscopic Spine Surgery-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন আরও জটিল অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য রোগীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত রোগীদের অভিজ্ঞতাও ছিল অনুপ্রেরণামূলক। নরেন্দ্রপুরের ৬৭ বছরের অশোক কুমার কর্মকার জানান, দীর্ঘদিনের অসহ্য পায়ের ব্যথা থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন। একইভাবে হুগলির প্রতীক চট্টোপাধ্যায় এবং মেঘালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তপন কুমার দে-ও চিকিৎসার পর সুস্থ জীবনে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর দেখিয়ে দিল, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্পাইন কেয়ার শুধু রোগের চিকিৎসাই নয়, রোগীদের নতুন জীবন, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগও ফিরিয়ে দিতে সক্ষম। Post navigation দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ, ওড়িশার আপত্তির পর সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের