Spread the love

বকেয়া বেতন থেকে চাকরির স্থায়ীকরণ—৯ দফা দাবিতে হাওড়ার স্বাস্থ্যকর্মীদের আবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:
নিয়মিত কাজ, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—তবুও চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বকেয়া বেতন, চাকরির স্থায়ীকরণ, সরাসরি নিয়োগ এবং সমকাজে সমবেতনের দাবিতে এবার সরব হলেন হাওড়া পুরসভার অধীনে বিভিন্ন নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত করণিক সহায়ক ও সাফাইকর্মীরা।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আওতায় কর্মরত এই স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নগর স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে তৃতীয় পক্ষের সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা পরিষেবা দিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির দৈনন্দিন পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁদের চাকরি ও আর্থিক ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

কর্মীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তৃতীয় পক্ষের সংস্থা বা মধ্যস্থতাকারী বাদ দিয়ে সরাসরি নিয়োগ, চাকরির স্থায়ীকরণ, সমকাজে সমবেতন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাস। তাঁদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বেতন বকেয়া রয়েছে।

এর পাশাপাশি ইএসআইসি ও ইপিএফের সুবিধা, কর্মীদের পরিচয়পত্র প্রদান, অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা, শিশু পরিচর্যার ছুটি এবং বছরে অন্তত ৩০ দিনের চিকিৎসাজনিত ছুটির দাবিও জানানো হয়েছে। অবসরের সময় এককালীন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার আবেদনও রয়েছে তাঁদের দাবিপত্রে।

দাবিগুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেও সরাসরি সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি বলে কর্মীদের দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়কদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি হাওড়ার হওয়ায় বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বিষয়টি দেখবেন।

এরপর ১৯ আগস্ট বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবেদনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। কর্মীদের দাবি, চাকরি চলে যাওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেও তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত সেই আশ্বাস লিখিত নির্দেশে পরিণত হয়নি। ফলে একদিকে কিছুটা স্বস্তি, অন্যদিকে দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে থেকে যাচ্ছে অপেক্ষা।

বছরের পর বছর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবা দেওয়ার পরও কেন তাঁদের চাকরি ও বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে—এই প্রশ্নই এখন সামনে আনছেন হাওড়ার স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, আশ্বাসের পর এবার দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ হবে এবং ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের পথ খুলবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *