Spread the love হাওড়া: স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ, দেশপ্রেমের মূল্যবোধ এবং জাতীয় চেতনার সংকটকে কেন্দ্র করে দর্শকদের সামনে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল হাওড়া নাট্যজনের প্রযোজনা ‘স্বাধীনতা তোমার জন্য’। গত ৩০ মে শনিবার তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে নাট্যকার মৃণাল দের উপস্থিতিতে মঞ্চস্থ হয় এই ব্যতিক্রমী নাটক। নাটকের সূচনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কণ্ঠ, ভারী বুটের শব্দ, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, বন্দুকের গর্জন এবং ‘বন্দেমাতরম’-এর ধ্বনি এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। শুরু থেকেই দর্শকদের সামনে উঠে আসে একের পর এক প্রশ্ন— আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? ভারত কি সত্যিই জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন অধিকার করেছে? স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য আজকের সমাজ কতটা উপলব্ধি করতে পারছে? নাট্যকার মৃণাল দে স্বাধীনতার বহু বছর পরেও দেশের সচেতন নাগরিকদের সামনে তুলে ধরেছেন আত্মসমালোচনার আয়না। স্বাধীনতা কি শুধুই একটি সরকারি ছুটি? স্বাধীনতা দিবস কি শুধুই উচ্চস্বরে ডিজে বাজিয়ে উচ্ছৃঙ্খল উদযাপনের দিন? দেশের জন্য আত্মবলিদান করা ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরার স্বপ্ন কি এটাই ছিল? নাটকটি শুধু প্রশ্নই তোলে না, দর্শকদের সামনে একটি পথও দেখায়। ইতিহাসকে মনে রাখা, জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত রাখা এবং প্রকৃত অর্থে দেশ গঠনের দায়িত্ব গ্রহণের বার্তা দেয় এই প্রযোজনা। বর্তমান সময়ে যখন নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা দিবসের চেয়ে অন্যান্য উৎসব বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, তখন নাটকটি মূল্যবোধের প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলে। অজয় সাউয়ের মঞ্চ নির্মাণ, আবহ পরিকল্পনা ও নির্দেশনা নাটকটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। আলো-আঁধারির চমৎকার ব্যবহার এবং সুচিন্তিত মঞ্চ প্রয়োগ দর্শকদের নাটকের ভাবনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। নামহীন তিন চরিত্র— শ্রী, গোবিন্দ ও চরণ— কখনও মঞ্চে, কখনও দর্শকদের মধ্যেই মিশে গিয়ে তাঁদের প্রাণবন্ত অভিনয়ের মাধ্যমে উপচে পড়া প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের মুগ্ধ করেন। নাটকের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের অভিনয় দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করেছে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ নিয়ে। সামগ্রিকভাবে ‘স্বাধীনতা তোমার জন্য’ শুধু একটি নাটক নয়, বরং জাতীয়তাবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এক গভীর আত্মঅনুসন্ধানের আহ্বান। আগামী দিনে এই প্রযোজনা বাংলা নাট্যজগতে বিশেষ স্থান করে নেবে বলেই মনে করছেন নাট্যপ্রেমীরা। Post navigation বাংলার গৌরব সম্মান ২০২৬-এ শ্রেষ্ঠ শর্ট ফিল্ম পরিচালক বিক্রমদেব সেনগুপ্ত, সম্মাননা প্রদান করলেন পায়েল সরকার