Spread the love নিজস্ব সংবাদদাতা, মায়াপুর: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, সংস্কৃতি এবং মানবিক মিলনের এক অনন্য উৎসব হিসেবে প্রতি বছর উদযাপিত হয় ইস্কনের প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুরের রথযাত্রা। নদীয়া জেলার রাজাপুরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে মানব মেলবন্ধনের এক বৃহৎ আন্তর্জাতিক সমাবেশ। এ বছর ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় রাজাপুর জগন্নাথ মন্দির থেকে মহাসমারোহে রথযাত্রা শুরু হবে। প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সুসজ্জিত রথ পৌঁছাবে শ্রীধাম মায়াপুরের ইস্কন চন্দ্রোদয় মন্দিরে। পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, যখন রথ পুনরায় রাজাপুরের জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসবে। রথযাত্রা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ইস্কন মায়াপুরে পঞ্চতত্ত্ব মন্দির প্রাঙ্গণে অস্থায়ী গুণ্ডিচা মন্দির স্থাপন করা হয়েছে। এই সময়ে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মাসির বাড়িতে অবস্থান করবেন। প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে ৫৬ ভোগ নিবেদন, দীপদান, জগন্নাথ অষ্টকম পাঠ, ভোগ আরতি, ভজন-কীর্তন, নাট্য ও নৃত্যানুষ্ঠানসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। পাশাপাশি সর্বসাধারণের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ১৯ জুলাই, রবিবার সকাল ৮টায় অনূর্ধ্ব আট বছর বয়সী শিশুদের জন্য মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ক্ষুদ্র রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ২০ জুলাই, সোমবার পালিত হবে ঐতিহ্যবাহী ‘হেরা পঞ্চমী’ উৎসব। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গাসাগর থেকে শিলিগুড়ি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইস্কনের তত্ত্বাবধানে শতাধিক স্থানে একই দিনে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০টি দেশের ৮০০-রও বেশি বড় শহরে ইস্কনের উদ্যোগে রথযাত্রা পালিত হয়ে থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথযাত্রার দিন ভগবান জগন্নাথ রত্নসিংহাসন ত্যাগ করে রাজপথে নেমে আসেন সকল মানুষের কল্যাণ, দর্শন ও আশীর্বাদের জন্য। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে অসংখ্য মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। রথের রশি টানা, প্রণাম নিবেদন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পরিণত হয় সর্বজনীন আনন্দ-উৎসবে। জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর জন্য নির্মিত তিনটি সুসজ্জিত রথের শোভাযাত্রায় থাকবে নামসংকীর্তন, নৃত্য ও ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পথের বিভিন্ন স্থানে পূজা, পানীয় জল ও প্রসাদ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হাজার হাজার ভক্তের “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হবে সমগ্র মায়াপুর ও রাজাপুর অঞ্চল। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা নিয়ে এবারের রথযাত্রায় সকলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ভক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিক ঐক্যের এই মহোৎসব নিঃসন্দেহে মায়াপুরকে আবারও বিশ্বমানচিত্রে এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। পোস্ট ন্যাভিগেশন কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রকাশিত হলো ‘রেডিয়ো সেভ লাইভ’, দুর্যোগ মোকাবিলায় বেতার ও হ্যাম রেডিওর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ