Spread the love কলকাতা: প্রেম সব সময় মিলনে শেষ হয় না—কখনও কখনও বিচ্ছেদের মধ্যেই তার পূর্ণতা খুঁজে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কালজয়ী উপন্যাস শেষের কবিতা সেই দর্শনকেই সামনে আনে, যেখানে সম্পর্কের সৌন্দর্য নিহিত থাকে পরিণত বিদায়ে। এই অনন্য ভাবনাকে মঞ্চে জীবন্ত করে তুলতে আসছে “The Farewell Letter”, একটি ইংরেজি নাট্যপাঠ, যা আগামী ২ মে সন্ধ্যা ৬টায় কলকাতার জ্ঞান মঞ্চ-এ অনুষ্ঠিত হবে। টু ডটস এন্টারটেইনমেন্ট এবং এসপিসি ক্র্যাফটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রযোজনায় ধারণা ও উপস্থাপনায় রয়েছেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। প্রচলিত নাট্যরীতির বাইরে গিয়ে কণ্ঠ, পারফরম্যান্স এবং চরিত্রের আন্তঃসম্পর্কের মাধ্যমে শেষের কবিতা-র গভীর মননশীলতাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই নাট্যপাঠের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক সম্পর্ক, যা সামাজিক নিয়ম বা চিরস্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। ব্যক্তিস্বাধীনতা, আত্মচেতনা এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শেষের কবিতা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ইংরেজি রূপান্তরটি রাধা চক্রবর্তী-র অনুবাদ থেকে অনুপ্রাণিত, এবং নির্দেশনায় রয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সোহাগ সেন। তাঁর সৃজনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত মঞ্চভাবনা এই প্রযোজনাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা, যেখানে মূল রচনার দর্শন ও আবেগ অটুট রেখে তা আধুনিক দর্শকের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এই প্রযোজনায় অভিনয় করছেন শুভায়ন সেনগুপ্ত, সোলাঙ্কি রায়, অনুষা বিশ্বনাথন এবং সোহাগ সেন। বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে দেবপ্রিয় মুখার্জিকে। আলোক ও মঞ্চ পরিকল্পনায় রয়েছেন কৌশিক বসু। গল্পপাঠে থাকছেন পৌলমী বসু ও সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, আর সংগীতে বেহালায় সঙ্গত করবেন সন্দীপন গাঙ্গুলি, যা পুরো পরিবেশনায় যোগ করবে এক বিশেষ আবহ। “The Farewell Letter” শুধুমাত্র একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং এটি ব্যক্তিস্বাধীনতা, আত্মপরিচয় এবং ছেড়ে দেওয়ার সাহসের এক গভীর প্রতিফলন—যা আবারও নতুনভাবে অনুভব করাবে শেষের কবিতা-র চিরন্তন আবেদন। Post navigation কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম কম্পিটিশনে ‘শেষ রাতের যাত্রী’-র সাফল্য, সেরা পরিচালকের সম্মান অর্জন