Spread the love

কলকাতা: আসন্ন দুর্গাপুজোয় যাত্রী ও পুজো দর্শনার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে বিশেষ ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থা করছে কলকাতা মেট্রো রেল। ব্লু, গ্রিন, ইয়েলো ও পার্পেল লাইনে পুজোর বিভিন্ন দিনে বিশেষ সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলবে। পাশাপাশি অরেঞ্জ লাইনে পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে পরিষেবা চালু থাকলেও সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত কোনও ট্রেন চলবে না বলে মেট্রো রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন লাইনে ট্রেনের সংখ্যা, পরিষেবার সময় এবং ব্যবধান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

ব্লু লাইন: পুজোর রাতে ভোর পর্যন্ত মেট্রো

মহাপঞ্চমী ও মহাষষ্ঠী অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ব্লু লাইনে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মোট ২৮৪টি ট্রেন চলবে। এর মধ্যে ১৪২টি আপ ও ১৪২টি ডাউন পরিষেবা। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৬ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যাবে। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টায়। শেষ পরিষেবা দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। এছাড়া শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমারের শেষ ট্রেন রাত ১১টায় ছাড়বে।

মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমী উপলক্ষে ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর ব্লু লাইনে দুপুর ১টা থেকে পরদিন ভোর ৪টে পর্যন্ত মোট ২৪৮টি পরিষেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১২৪টি আপ ও ১২৪টি ডাউন ট্রেন। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৬ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। ওই দিনগুলিতে বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রথম পরিষেবা শুরু হবে দুপুর ১টায়। নোয়াপাড়া থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ২ মিনিটে। শেষ পরিষেবা দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর ভোর ৩টা ৪৮ মিনিটে। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমারের শেষ ট্রেন ছাড়বে ভোর ৪টেয়।

দশমী অর্থাৎ ২১ অক্টোবর ব্লু লাইনে দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ১৪০টি ট্রেন চলবে। এর মধ্যে ৭০টি আপ ও ৭০টি ডাউন পরিষেবা। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৮ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যাবে। ওই দিন শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দমদম থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের প্রথম পরিষেবা দুপুর ১টায় শুরু হবে। মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং নোয়াপাড়া থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে। শেষ পরিষেবা শহিদ ক্ষুদিরাম ও দক্ষিণেশ্বর থেকে পরস্পরগামী ট্রেনের ক্ষেত্রে রাত ১০টা ২০ মিনিটে এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম ও দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমারের ক্ষেত্রে রাত সাড়ে ১০টায়।

গ্রিন লাইন: রাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত পরিষেবা

গ্রিন লাইনে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মোট ২৪০টি পরিষেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১২০টি আপ ও ১২০টি ডাউন ট্রেন। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৬ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টায় এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দানের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৯ মিনিটে। উভয় দিকের শেষ পরিষেবা রাত ১১টায়।

১৭ থেকে ২০ অক্টোবর গ্রিন লাইনে দুপুর দেড়টা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত পরিষেবা চালু থাকবে। এই চার দিনে মোট ১৯২টি ট্রেন চলবে, যার মধ্যে ৯৭টি আপ ও ৯৫টি ডাউন পরিষেবা। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৮ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যাবে। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর দেড়টায় এবং বিপরীতমুখী প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে। শেষ পরিষেবা হাওড়া ময়দান থেকে ভোর ৩টা ৫২ মিনিটে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে ভোর ৩টা ৫৯ মিনিটে।

দশমী, ২১ অক্টোবর গ্রিন লাইনে দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ৭৪টি ট্রেন চলবে। ৩৭টি আপ ও ৩৭টি ডাউন পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১৫ মিনিট। হাওড়া ময়দান থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর দেড়টায় এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে। উভয় দিকের শেষ পরিষেবা রাত সাড়ে ১০টায়।

ইয়েলো লাইন: বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

ইয়েলো লাইনে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১২০টি ট্রেন চলবে। এর মধ্যে ৬০টি আপ ও ৬০টি ডাউন পরিষেবা। ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১২ মিনিট। জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত সরাসরি পাঁচটি পরিষেবাও পাওয়া যাবে।

ওই দুই দিন নোয়াপাড়া থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দরের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে এবং বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়ার প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে। শেষ ট্রেন নোয়াপাড়া থেকে রাত ৯টায় এবং বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছাড়বে।

১৭ থেকে ২০ অক্টোবর ইয়েলো লাইনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত মোট ৭২টি পরিষেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩৬টি আপ ও ৩৬টি ডাউন ট্রেন। ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১২ মিনিট। নোয়াপাড়া থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে বিকেল ৩টেয় এবং জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে। শেষ ট্রেন নোয়াপাড়া থেকে রাত সাড়ে ১০টায় এবং বিমানবন্দর থেকে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে।

দশমী, ২১ অক্টোবর ইয়েলো লাইনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত মোট ৬২টি পরিষেবা দেওয়া হবে। ৩১টি আপ ও ৩১টি ডাউন ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১২ মিনিট। প্রথম পরিষেবা নোয়াপাড়া থেকে বিকেল ৩টেয় এবং জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে। শেষ পরিষেবা নোয়াপাড়া থেকে রাত ৯টা ২৪ মিনিটে এবং বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে।

পার্পেল লাইন: পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে সকাল থেকে রাত

পার্পেল লাইনে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট ৮৪টি পরিষেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪২টি আপ ও ৪২টি ডাউন ট্রেন। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ২১ মিনিট। জোকা থেকে মাঝেরহাটের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে এবং মাঝেরহাট থেকে জোকার প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ৩ মিনিটে। শেষ পরিষেবা জোকা থেকে রাত ৯টা ৫ মিনিটে এবং মাঝেরহাট থেকে রাত ৯টা ২৬ মিনিটে।

১৭ থেকে ২১ অক্টোবর, সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পার্পেল লাইনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত মোট ৩৮টি পরিষেবা দেওয়া হবে। ১৯টি আপ ও ১৯টি ডাউন ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ২৫ মিনিট। জোকা থেকে মাঝেরহাটের প্রথম ট্রেন ছাড়বে বিকেল ৩টেয় এবং মাঝেরহাট থেকে জোকার প্রথম ট্রেন ছাড়বে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে। শেষ পরিষেবা জোকা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় এবং মাঝেরহাট থেকে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে।

অরেঞ্জ লাইন: সপ্তমী থেকে পরিষেবা বন্ধ

অরেঞ্জ লাইনে মহাপঞ্চমী ও মহাষষ্ঠী, অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মোট ৬২টি পরিষেবা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩১টি আপ ও ৩১টি ডাউন ট্রেন। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ২৫ মিনিট।

কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটার প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং বেলেঘাটা থেকে কবি সুভাষের প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। শেষ ট্রেন কবি সুভাষ থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিটে এবং বেলেঘাটা থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাড়বে।

তবে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর, অর্থাৎ মহাসপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনে কোনও পরিষেবা থাকবে না বলে মেট্রো রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুজোর ভিড় সামাল দিতে এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই বিশেষ সময়সূচি কার্যকর করা হচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট লাইনের পরিষেবার সময়সূচি দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *