Spread the love নয়তলা আতিথেয়তা কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা, সংরক্ষিত হবে ঐতিহাসিক হাওয়ামহলের ঐতিহ্য বারাণসী, ৭ অক্টোবর, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রসারিত করা এবং বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে বারাণসীর সোনারপুরায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কোচবিহার কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন ও আতিথেয়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ৭ অক্টোবর স্থানটি পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন অধিকর্তা তথা পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী সুমন্ত সহায়, আইএএস, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের প্রধান প্রকৌশলী শ্রী পি.পি. সিনহা, পরামর্শদাতা স্থপতি এবং কোচবিহার কালীবাড়ি ট্রাস্ট বোর্ডের প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক নয়তলা (B+G+7) ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ৬০টি অতিথিকক্ষ, ১০টি স্যুট, রেস্তোরাঁ, কফি শপ, ব্যাঙ্কোয়েট হল, জিম এবং লাইব্রেরির মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বারাণসীতে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্নতমানের আবাসন এবং আতিথেয়তার ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কালীমন্দির প্রাঙ্গণের সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি, ঐতিহাসিক হাওয়ামহলের নিজস্ব স্থাপত্য ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সেটিকে প্রিমিয়াম লাক্সারি স্যুটে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব রয়েছে। আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি শুধু পর্যটকদের থাকার জায়গা হিসেবেই নয়, বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, খাদ্যসংস্কৃতি এবং কোচবিহারের রাজকীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরার একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বারাণসীতে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রায় ৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ও ব্যবসার প্রসারের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বারাণসীর মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ঐতিহ্য সংরক্ষণ, আধুনিক আতিথেয়তা এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন—এই তিনটি দিককে একসূত্রে গেঁথে বারাণসীর ঐতিহাসিক কোচবিহার কালীবাড়িকে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এই প্রস্তাবিত উদ্যোগ। Post navigation দুর্গা পুজোয় কলকাতা মেট্রোর বিশেষ পরিষেবা, পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত একাধিক লাইনে বাড়তি ট্রেন আধুনিক প্রযুক্তি ও জনমুখী উদ্যোগে জোর, শুরু জাতীয় ডাক সপ্তাহ ২০২৬