Spread the love বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশাল বিশ্বাস।বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য, হারিয়ে যেতে বসা কুটিরশিল্প এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল বিষ্ণুপুর অনামি ক্লাব। পুজোর ৭৫তম বর্ষ তথা প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে উদ্যোক্তারা বেছে নিয়েছিলেন ‘গ্রামবাংলা’ থিম। এই ভাবনার মধ্য দিয়ে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা পাট ও পিতলের শিল্পকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।মণ্ডপ নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল পরিবেশবান্ধব উপকরণ ও বাংলার নিজস্ব শিল্পরীতিকে। উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে হাতে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপের বিভিন্ন শিল্পকর্ম। মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল গ্রামবাংলার পরিচিত ছবি। এমনকি ক্লাব প্রাঙ্গণেও তৈরি করা হয়েছিল ধানখেতের দৃশ্য, যা গ্রামীণ বাংলার আবহকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল। মণ্ডপের শিল্পকর্মে সিমেন্ট, প্লাস্টিকের মতো আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করে ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ও হস্তশিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল।পরিবেশরক্ষার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের উদ্যোগ বজায় রেখেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছর ধরে তাঁদের পুজোয় দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক ও থার্মোকলের ব্যবহার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও তুলে ধরা হয়েছিল।উদ্যোক্তাদের কাছে এই আয়োজন ছিল শুধুমাত্র একটি পুজো বা মণ্ডপসজ্জা নয়; বরং ভালোবাসা, আবেগ ও পরিশ্রমের সম্মিলিত প্রকাশ। বাংলার হারিয়ে যেতে বসা হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যেই তাঁদের এই বিশেষ উদ্যোগ। ৭৫তম বর্ষের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিষ্ণুপুর অনামি ক্লাব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুজোর এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছিল। Post navigation নারীর হৃদয়ের আর্তনাদ থিমে নারী ও শিশুর সুরক্ষার বার্তা, ২০ বছরে পদার্পণ বানজেটিয়া অক্ষয় সমিতির বত্রিশতম বর্ষে বিষ্ণুপুর আমরা কজন ক্লাবের থিম ‘রণংদেহী দুর্গা’, নজর কাড়ল শৈল্পিক উপস্থাপনা