Spread the love

‘মা মাসি কিচেন’-এর প্রিয় জ্যোতিপ্রসাদ বসুর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ নেটদুনিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন:
কখনও খাবারের আবদার, কখনও মিষ্টি হাসি—দু’জনের ছোট ছোট মুহূর্তেই যেন ধরা পড়ত ৪৭ বছরের দাম্পত্যের ভালোবাসা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ভিডিও দেখেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই পরিচিত জুটি আজ আর একসঙ্গে নেই। চিরতরে স্ত্রী শিউলি দেবীকে একা করে চলে গেলেন তাঁর ৪৭ বছরের জীবনসঙ্গী জ্যোতিপ্রসাদ বসু।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় পেজ ‘মা মাসি কিচেন’। বর্তমানে এই পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ৯ লক্ষেরও বেশি। এই পেজের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন শিউলি দেবী। তাঁর তৈরি নানা ধরনের রান্নার সঙ্গে দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তাঁর স্বামী জ্যোতিপ্রসাদ বসু। স্ত্রী রান্না করছেন, আর পাশে বসে স্বামী কখনও আবদার করছেন প্রিয় কোনও পদ খাওয়ার—এই সহজ, স্বাভাবিক দৃশ্যগুলোতেই খুঁজে পেতেন দর্শকরা এক অন্যরকম ভালোবাসা।

তাঁদের ভিডিওতে ছিল না কোনও কৃত্রিমতা। ছিল সংসারের চেনা ছবি, ছিল দীর্ঘ দাম্পত্যের মায়া, ছিল পরস্পরের প্রতি যত্ন আর ভালোবাসা। তাই ‘মা মাসি কিচেন’-এর প্রতিটি ভিডিও শুধু রান্নার ভিডিও হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছিল অসংখ্য মানুষের কাছে ভালোবাসার এক ছোট্ট জানলা। তাঁদের মিষ্টি সম্পর্কের মুহূর্তগুলো লাখ লাখ দর্শকের মন ছুঁয়ে যেত।

কিন্তু সেই পরিচিত দৃশ্য আর দেখা যাবে না। আর কেউ মিষ্টি হেসে স্ত্রীর কাছে বাহারি কোনও মেনুর আবদার করবেন না। আর শিউলি দেবীর রান্নাঘর থেকে স্বামীর জন্য ভালোবাসা মেশানো সেই খাবার পরিবেশনের দৃশ্যও ধরা পড়বে না ক্যামেরায়।

আজ ‘মা মাসি কিচেন’-এর পাতায় স্বামীর ছবি পোস্ট করে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন খবরটি জানিয়েছেন শিউলি দেবী। আবেগঘন সেই বার্তায় তিনি লিখেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার তাঁর সমস্ত বন্ধুদের অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, গত ১৩ আগস্ট তাঁর ৪৭ বছরের সঙ্গী জ্যোতিপ্রসাদ বসু চিরতরে তাঁদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই সিওপিডিতে ভুগছিলেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। গত ৭ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই ১৩ আগস্ট আসে সেই দুঃসংবাদ।

স্বামীর মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের জানাতেও কয়েকদিন সময় লেগেছে শিউলি দেবীর। তাঁর কথায়, স্বামীর চলে যাওয়ার পর এমন পরিস্থিতিতে ছিলেন না যে কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেন।

জ্যোতিপ্রসাদ বসুর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে ‘মা মাসি কিচেন’-এর অসংখ্য অনুরাগীর মধ্যে। যাঁরা প্রতিদিনের জীবনে এই দম্পতির সহজ-সরল ভালোবাসাকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের কাছে জ্যোতিপ্রসাদবাবু যেন পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন।

একটি রান্নার পেজ কীভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে, ‘মা মাসি কিচেন’ তারই এক অনন্য উদাহরণ। আর সেই গল্পের অন্যতম প্রাণের মানুষটি আজ নেই। রয়ে গিয়েছে তাঁর হাসি, তাঁর আবদার, তাঁর সঙ্গে শিউলি দেবীর অসংখ্য স্মৃতি—আর হাজার হাজার দর্শকের মনে জমে থাকা ভালোবাসা।

৪৭ বছরের সঙ্গ শেষ হয়েছে, কিন্তু ভালোবাসার গল্পটা বোধহয় শেষ হয় না।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *