Spread the love নন্দনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চলচ্চিত্র নির্বাচন থেকে উৎসবের সার্বিক পরিকল্পনা—ডিসেম্বরে বর্ণময় সিনেমার আসর নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:বাংলার চলচ্চিত্র সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যাপন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১৫ থেকে ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব। সেই উৎসবকে সুষ্ঠু, বর্ণময় ও সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে প্রস্তুতি পর্বে গতি আনল উৎসবের কার্যনির্বাহী পরিষদ। গত ২৭ অক্টোবর নন্দনের কমিটি রুমে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক। চলচ্চিত্র নির্বাচন, প্রেক্ষাগৃহ পরিচালনা থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠানসূচি—উৎসবের নানা দিক নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা শ্রী মিঠুন চক্রবর্তী, মাননীয়া রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীমতী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, যুগ্ম প্রধান উপদেষ্টা শ্রী সন্দীপ রায়, চেয়ারম্যান শ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সচিব তথা উৎসবের ডিজি ড. সৌমিত্র মোহন। পাশাপাশি কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমতী পাপিয়া অধিকারী, শ্রীমতী রূপা গাঙ্গুলি, শ্রী রুদ্রনীল ঘোষ, ড. হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, শ্রীমতী লকেট চট্টোপাধ্যায়, শ্রীমতী অগ্নিমিত্রা পল, শ্রী যিশু সেনগুপ্ত, শ্রীমতী শবরী মুখোপাধ্যায়, শ্রী আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রী জিৎ মদনানি-সহ বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দেশ-বিদেশের সিনেমা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন একটি চলচ্চিত্র উৎসব কেবল সিনেমা প্রদর্শনের পরিসর নয়; এটি বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনবোধ ও শিল্পভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক অনন্য মঞ্চ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই আসন্ন উৎসবের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচন, প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপনা এবং দর্শকদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উঠে আসে আলোচনায়। কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে চলচ্চিত্র উৎসব মানেই নতুন সিনেমার আবিষ্কার, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় এবং সিনেমা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ। একই সঙ্গে নবীন ও অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে বৃহত্তর দর্শকসমাজের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। নন্দনকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে নন্দনের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি ঘিরে তাই এই প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। আগামী ডিসেম্বরের আট দিনের আয়োজনে কোন কোন দেশের চলচ্চিত্র স্থান পাবে, কোন ধরনের বিশেষ প্রদর্শনী দর্শকদের আকর্ষণ করবে এবং কীভাবে উৎসবের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সাজানো হবে—সেই দিকেই এখন নজর চলচ্চিত্রমহলের। কার্যনির্বাহী পরিষদের এই বৈঠক আসন্ন উৎসবের প্রস্তুতিকে আরও সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও চূড়ান্ত চলচ্চিত্র তালিকা ও বিস্তারিত অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি, তবু প্রস্তুতির এই পর্ব থেকেই স্পষ্ট যে উৎসবকে ঘিরে পরিকল্পনার কাজ এগিয়ে চলেছে। সিনেমার উৎসবে নতুন প্রত্যাশা ১৫ থেকে ২২ ডিসেম্বর—এই আট দিন কলকাতা আবারও হয়ে উঠতে পারে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনক্ষেত্র। পর্দায় ধরা পড়বে নানা দেশের গল্প, মানুষের জীবনসংগ্রাম, সমাজের পরিবর্তন এবং সময়ের নানা প্রতিচ্ছবি। সিনেমার ভাষায় এক সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির সংলাপই হয়ে উঠবে এমন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এখন অপেক্ষা উৎসবের চূড়ান্ত কর্মসূচি ও চলচ্চিত্র তালিকার। তার আগেই নন্দনের প্রস্তুতি বৈঠক বুঝিয়ে দিল, ৩২তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে পরিকল্পনার চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের উৎসব কতটা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন ভাবনা ও সিনেমার নতুন দিগন্ত উপহার দেয়, সেই উত্তর দেবে আগামী দিনের আয়োজন। উৎসবের দিনক্ষণ: ১৫–২২ ডিসেম্বর ২০২৬প্রস্তুতি বৈঠক: ২৭ অক্টোবর ২০২৬বৈঠকের স্থান: নন্দন, কলকাতা পোস্ট ন্যাভিগেশন ‘দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬’-এর ফলাফল ঘোষণা, সাত বিভাগে সম্মানিত কলকাতার পুজো কমিটি