Spread the love কলকাতা: আধুনিক শিক্ষা, মূল্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও সর্বাঙ্গীণ বিকাশের আদর্শকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুল এবছর তাদের গৌরবময় ৫৬তম বর্ষ উদযাপন করল। এই বিশেষ উপলক্ষে সম্প্রতি কলকাতার কেন্দ্রস্থল ৪০এ আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস রোডে স্কুলের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করা হয়। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য এই নতুন ক্যাম্পাসে উন্নত পরিকাঠামো, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুল কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশন (CISCE) কর্তৃক দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠনের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি শিক্ষার উৎকর্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার বজায় রেখে চলেছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মূল্যবোধের শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্কুলের অধ্যক্ষ ডা. রিচার্ড গ্যাস্পার বলেন, “যে কোনও পরিস্থিতিতে শিক্ষার উন্নত মান বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একজন ছাত্রের শৈশব থেকে কৈশোরে উত্তরণের পথে তার শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে আমরা সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। সঠিক মানসিক বিকাশ, নিয়মানুবর্তিতা ও চরিত্র গঠনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব।” বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, যোগব্যায়াম ও খেলাধুলাও শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শ্রীমতী এসথার গ্যাসপার জানান, ছাত্রছাত্রীদের আত্মরক্ষার জন্য বিশেষ কসরত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী, সমাজসচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকেই এখানে সামগ্রিক ও প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষাক্রমের উপর জোর দেওয়া হয়। আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করতে খুব শীঘ্রই বিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক্সের পাঠক্রম চালু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল জাতীয় এনসিসি ও এয়ার উইং এনসিসি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকা। এই প্রশিক্ষণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দেশাত্মবোধ, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ও নিয়মানুবর্তিতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। প্রধান শিক্ষক শ্রী জ্যাসন হার্ডি জানান, “ছোট থেকেই এখানে চাপমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হয়। আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি সবসময় আকর্ষণীয়, অর্থপূর্ণ ও ছাত্রবান্ধব। পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।” একটি দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদ্যালয়ে কার্যকর ‘ওপেন স্কুল সেকশন’-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। কলকাতার প্রধান ক্যাম্পাস ছাড়াও বর্তমানে সেন্ট অগাস্টিন ডে স্কুলের আরও তিনটি শাখা রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতী অন্নপূর্ণা মুখার্জি জানান, বিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক ছাত্র বিনিময় কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতনামে শিক্ষামূলক সফরের সুযোগ পায়। এছাড়াও সৃজনশীলতা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং কেরিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কেরিয়ার ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। Post navigation দীর্ঘ আইনি জট কাটিয়ে ট্যাবের পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন, পর্যটন শিল্পে নতুন দিশার বার্তা বাংলার পরিবর্তনের লড়াইয়ে একসাথে শুভেন্দু-মিঠুন, কলকাতায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা