Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলের এসি কোচে যাত্রীদের জন্য সরবরাহ করা বেডশিট, তোয়ালে, কম্বল, বালিশ ও বালিশের কভারের বিপুল পরিমাণ চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের মাধ্যমে প্রকাশিত এক তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রেল ডিভিশনে মোট ১.২৭ কোটি লিনেন সামগ্রী উধাও হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় রেল এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ১০৪.৫১ কোটি টাকা।

তদন্তের জন্য দেশের ৬৯টি রেল ডিভিশনে আরটিআই আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৪টি ডিভিশন তথ্য সরবরাহ করেছে, যা ১৮টি রেল জোনের মধ্যে ১৬টি জোনকে অন্তর্ভুক্ত করে। কয়েকটি ডিভিশন সম্পূর্ণ তথ্য বা ক্ষতির হিসাব না দেওয়ায় প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে ন্যূনতম হিসাব হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে তোয়ালে। গত চার বছরে ৪৬.৫৪ লক্ষ তোয়ালে উধাও হয়েছে। এছাড়া ৪১.১৩ লক্ষ বেডশিট, ২৩.৫৯ লক্ষ বালিশের কভার, ১২.৯৫ লক্ষ কম্বল এবং ২.৭৬ লক্ষ বালিশ হারিয়ে গেছে। অর্থাৎ যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা প্রায় সব ধরনের লিনেন সামগ্রীই বড় আকারে চুরির শিকার হয়েছে।

ভারতীয় রেল প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ এসি যাত্রীকে এই লিনেন সরবরাহ করে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতি ১,০০০ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত একজন একটি করে লিনেন সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে নেমে যাচ্ছেন। সংখ্যাটি আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও প্রতিদিনের হিসাবে তা কয়েকশো সামগ্রীতে পৌঁছায় এবং কয়েক বছরের ব্যবধানে তা ১.২৭ কোটিরও বেশি হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে লিনেন চুরির ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ডিভিশনের তালিকায় রয়েছে বিকানের, রাঁচি, দিল্লি, মুম্বই, যোধপুর, আহমেদাবাদ, দানাপুর, সোনপুর, জয়পুর এবং বিলাসপুর। এই ১০টি ডিভিশনেই মোট চুরির প্রায় ৬৭ শতাংশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এই ক্ষতির প্রভাব শুধু রেলের উপরেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু ক্ষেত্রে বেডরোল সরবরাহকারী ঠিকাদারদের ক্ষতিপূরণ বহন করতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ঠিকাদার সেই ক্ষতির টাকা কোচ অ্যাটেনডেন্টদের বেতন থেকে কেটে নেন। কয়েকজন অ্যাটেনডেন্ট জানিয়েছেন, কোনও কোনও মাসে তাঁদের বেতন থেকে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষতির কারণে এই পরিষেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেল মন্ত্রক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো, কোচ মিত্র ব্যবস্থা চালু করা, কর্মীদের পরিচয় যাচাই, যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে লিনেন সংগ্রহের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতীয় রেলের এসি কোচে লিনেন চুরির সমস্যা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

By admin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।