
শুভঙ্কর সরকার | নিজস্ব সংবাদদাতা:
ভারতবর্ষ প্রাচীনকাল থেকেই “বসুধৈব কুটুম্বকম” দর্শনে বিশ্বাস করে এসেছে, যার অর্থ-সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার। এই দর্শনই ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল ভিত্তি, যেখানে যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং সম্মানজনক সহাবস্থানের বার্তা সর্বদা গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের দার্শনিক ঐতিহ্য ও সনাতনী ধর্মগ্রন্থগুলিতে এই মূল্যবোধের সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। ভগবত গীতা-তেও যুদ্ধকে সর্বশেষ অবলম্বন হিসেবে বিবেচনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ন্যায়, ধর্ম ও দেশরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া সংঘর্ষকে কখনোই প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্বজুড়ে নানা সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেও ভারত বরাবরই শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও ভারতীয় কূটনীতি সর্বদা শান্তি, সংলাপ ও মানবকল্যাণের পথকেই সমর্থন করেছে। সংকটের সময়েও ভারত বহুবার বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ-ও এই মূল্যবোধের প্রতীক ভারত শান্তিপ্রিয় হলেও প্রয়োজনে সিংহের মতো নির্ভীক। পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ভারত কখনো অন্য কোনো দেশের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করেনি; বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্বশান্তির এই চিরন্তন বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে বৃহদারণ্যক উপনিষদ-এর পবিত্র শান্তি মন্ত্রেও-
“ওঁ অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়, ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।”

এই মন্ত্র অজ্ঞতা থেকে সত্যের পথে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং নশ্বরতা থেকে অমরতার পথে অগ্রসর হওয়ার প্রার্থনা জানায়।
ভারত বরাবরই বিশ্বজুড়ে শান্তি, সহমর্মিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সৌভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। বিশ্বশক্তিগুলিও যদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একসাথে এগিয়ে আসে, তবে মানবজাতির ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হতে পারে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়-
“ঘোর তিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে, জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে। দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে রক্ষা করিলে অঙ্কে, স্নেহময়ী তুমি মাতা। জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা! জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।”