Spread the love

উৎসবের মরশুমের আবহেই কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের নজর এখন ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF 2026) দিকে। আগামী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই চলচ্চিত্র উৎসব। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উৎসবের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতির তৎপরতা। রবিবার, ১ নভেম্বর, নন্দনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উন্মোচিত হল আসন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো।

তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী নতুন লোগোটির উদ্বোধন করেন। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায়ের শৈল্পিক ভাবনায় তৈরি হয়েছে ‘কিফ’-এর এই নতুন পরিচিতি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর উৎসবের লোগো থেকে শুরু করে আয়োজনের নানা ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ফলে এবারের চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে দর্শক ও চলচ্চিত্র মহলে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।

রবিবাসরীয় সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুদেষ্ণা রায় এবং হরনাথ চক্রবর্তীর মতো তারকাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।

এবারের উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। উৎসবের থিম সংয়ের নেপথ্যে রয়েছেন রাতুল বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে অভিনেতা-বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। এ ছাড়া এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ফোকাস কান্ট্রি’ হিসেবে থাকছে আয়ারল্যান্ড, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অতিথি তালিকাতেও রয়েছে একাধিক চমক। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের সুপারস্টার রজনীকান্ত, ‘বাহুবলী’খ্যাত প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার, কঙ্গনা রানাউত, অনুরাগ বসু ও মধুর ভান্ডারকরের মতো তারকাদের নাম সম্ভাব্য অতিথি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তালিকায় এক সম্ভাব্য হলিউড অভিনেত্রীর নামও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তাঁর উপস্থিতি এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ছাব্বিশের চলচ্চিত্র উৎসবে কোন কোন দেশের ছবি প্রদর্শিত হবে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কারা অংশ নেবেন এবং দর্শকদের জন্য কী কী নতুন চমক অপেক্ষা করছে—তার উত্তর অবশ্য এখনও অধরা। আগামী দিনে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও অন্যান্য ঘোষণা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, নতুন লোগো, বদলে যাওয়া আয়োজনের রূপরেখা, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আয়ারল্যান্ডকে কেন্দ্র করে বিশেষ আকর্ষণ—সবকিছু মিলিয়ে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। কলকাতার চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে এবারের নতুন সংযোজন কতটা সার্থক হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সিনেপ্রেমীরা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *