
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: শুক্লা গাঙ্গুলী
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ও এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ED) দ্বারা আর্থিক ও অন্যান্য প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিকাল অঙ্কোলজির সদস্য অরদীপ চ্যাটার্জিকে সকল অভিযোগ থেকে দেশের আদালত সম্মানজনক ও নিশর্ত মুক্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সকল অভিযোগের দায় থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন সহ অভিযুক্ত তাঁর বাবা প্রবীণ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা অসীম চ্যাটার্জিও।
বেআিইনিভাবে ক্যানসার চিকিৎসা করে আর্থিক উপার্জন ও আরো অন্যান্য মারাত্বক অভিযোগে অতিরিক্ত দুটি FIR সহ লেক টাউন থানার পুলিশ একটি সুয়ামোটো কেস দায়ের করে অরদীপ চ্যাটার্জিকে গ্রেফতার করে। অরদীপের জীবনের এই কালো অধ্যায় শুরু হয় ২৯শে জুন ২০১৭ থেকে, একই সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটও। পরে ২৩শে আগস্ট ২০১৭তে বেআইনি ভাবে অরদীপকে সাহায্য করার জন্য তাঁর বাবা অসীম চ্যাটার্জিকেও গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তি পর্যায়ে ইডি এই মামলায় পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে অরদীপের বিরুদ্ধে বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন আর্থিক দুর্নিতির অভিযোগে ১৩ই নভেম্বর ২০০১৭তে একটি ECIR দাখিল করে। সেই সঙ্গে তাঁর সকল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তিকে যুক্ত করে নভেম্বর ২০১৭তে বিশেষ ইডি আদালতে অরদীপের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অরদীপ চ্যাটার্জির অ্যাডভোকেট শ্রী সুমিত দাস জানান যে অরদীপ চ্যাটার্জি ও তাঁর বাবা অসীম চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে বিধান নগর পুলিশ ও ইডির আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই কারনেই দীর্ঘ শুনানির শেষে বারাসাতের এক নম্বর ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট ও সল্ট লেকের বিচারভবনের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের বিচারের জন্য গঠিত বিশেষ ইডি আদালত দুইজনকেই সব অভিযোগ থেকে সসম্মানে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করেছেন।
অরদীপের আইনজীবী আরও জানান যে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে অ্যাপিলের প্রয়োজন মনে না করায় ইডি অরদীপের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত অর্থ সুদ সহ ফেরত দিয়ে দিয়েছে।
অরদীপ চ্যাটার্জি তাঁর বক্তব্যে বলেন তাঁর বিরুদ্ধে এত ভিত্তিহীন অভিযোগ ও হায়রানি হলেও দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উপর তাঁর সম্পুর্ন আস্থা আছে। তিনি দেশকে ভালোবেসে ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা সোরিনাম থেরাপির গবেষনার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাবেন। বস্তুত এই হায়রানি এবিষয়ে তাঁর জেদ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বস্তুত সোরিনাম থেরাপি ক্যানসারের একটি সার্থক বিকল্প চিকিৎসা। এর ওষুধে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার ছোট হয়ে যায়। এই থেরাপির কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই আর খরচও কম। অ্যাডভান্স স্টেজের প্যানক্রিয়াস, লিভার বা গলব্লাডারের মতো জটিল ক্যানসারের অ্যাডভান্স স্টেজে যখন মুল চিকিৎসা ব্যবস্থা হাল ছেড়ে দেয় তখন সোরিনাম থেরাপিতে বহু ক্ষেত্রেই মানুষ দীর্ঘদিন ভাল থাকতে পারেন। দেশের দরিদ্র রোগীদের উপকারি বন্ধু এই বিকল্প চিকিৎসাকে ক্যানসার চিকিৎসার মুল স্রোতে যুক্ত করতে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন বলে জানান।
শ্রী চ্যাটার্জি বলেন তাঁর গবেষণা ও চেষ্টায় সোরিনাম থেরাপি যখন ক্রমশ উন্নত ও বহু মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠছিল, তখন এটি এক শ্রেণীর অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী চক্রের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে। এদেরই চক্রান্তে হয়ত তাঁকে এইভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তাঁর আরো বক্তব্য তাঁর এই হার না মানা লড়াই হয়ত সমষ্টির চক্রান্তের বিরুদ্ধে একা মানুষের আপোষহীন সংগ্রামের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কখনই কোন মিথ্যা চক্রান্তের কাছে নতি শিকার না করে লড়াই করা উচিৎ। কারণ শেষ বিচার একমাত্র দেশের আদালতই করতে পারে।
পরিশেষে অরদীপ বলেন বিগত কয়েক বছরে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রায় সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে তাঁর বিশ্বাস যোগ্যতাকে নষ্ট করতে নানা ভাবে চক্রান্ত করা হয়েছে, আর্থিকভাবেও তিনি চরম সংকটের মুখে পড়েছেন কিন্ত তিনি হার মানেন নি আবার উঠে দাড়িয়েছেন। মানুষের উপকারে, বিজ্ঞানের উন্নতিতে সব অবহেলাকে তুচ্ছ করে সারা জীবন কাজ করে যাবেন বলেই তিনি শপথ করেন।