Spread the love মায়াপুর, নদিয়া: বৈশাখ মাসের শুভ অক্ষয় তৃতীয়া তিথিকে কেন্দ্র করে শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন মন্দিরে শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী চন্দনযাত্রা উৎসব। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার থেকে এই উৎসবের সূচনা হবে এবং তা চলবে টানা ২১ দিন ধরে। অক্ষয় তৃতীয়া হিন্দু ধর্মে এক অত্যন্ত পবিত্র তিথি হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে সম্পন্ন যে কোনও শুভকর্ম অনন্তকাল অক্ষয় থাকে। পুরাণ মতে, এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেন ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম এবং মহাভারতের রচনাও এই তিথিতে শুরু হয়েছিল। এই শুভ দিন থেকেই শুরু হওয়া চন্দনযাত্রা উৎসবে ভগবানের সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ থেকে আরাম দেওয়ার বিশেষ আচার পালিত হয়। ভক্তদের মতে, ভগবান ভক্তের সেবা গ্রহণ করে অপরিসীম আনন্দ উপভোগ করেন। প্রায় পাঁচশো বছর আগে পুরীর নরেন্দ্র সরোবরে শ্রীশ্রী রাধামদন মোহনকে নিয়ে এই চন্দনযাত্রার সূচনা হয়, যেখানে স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে মায়াপুর ইসকনে প্রতিবছর প্রভুপাদ সমাধি মন্দির পুস্করিণীতে মহাসমারোহে এই উৎসব পালিত হয়। উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে মায়াপুরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে শ্রীশ্রী রাধামাধবকে চন্দ্রোদয় মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য সংকীর্তন শোভাযাত্রার মাধ্যমে সমাধি মন্দির পুস্করিণীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে সলিল বিহার, আরতি, কীর্তন, ভোগ নিবেদন, ভজন এবং নৃত্যগীত। সুসজ্জিত নৌকায় দেবদেবীর বিহার, ফুল ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত মন্দির প্রাঙ্গণ এবং কৃত্রিম ফোয়ারার পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি আগত ভক্তদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। গ্রীষ্মের উষ্ণতার মধ্যেও এই আধ্যাত্মিক উৎসব সকলের মনে আনে শান্তি ও স্বস্তির বার্তা। Post navigation কলকাতায় হার্টফুলনেস সেন্টারে সঙ্গীত ও ধ্যানের অনন্য মিলন, মুগ্ধ শ্রোতারা কিংবদন্তি ফুটবলার গোষ্ঠ পাল-এর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ময়দানে শ্রদ্ধার্ঘ্য, স্মরণে প্রভাতী অনুষ্ঠান