
সিনেমা ও সাহিত্যের প্রতিবেদন:
“সেবা হি পরম ধর্ম”—এই বাণী যে কেবল উচ্চারণে নয়, বাস্তব কর্মে কতটা জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মন্মথপুরে। ভারত সেবাশ্রম সংঘ–এর উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারবর্গের বার্ষিক বনভোজন একদিনের ভ্রমণকে ছাপিয়ে রূপ নিল এক হৃদয়ছোঁয়া মিলনোৎসবে।
সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রণবানন্দজি–এর আদর্শকে সামনে রেখে সাধু মহারাজ, আচার্য, গুরু মহারাজ, সেবক, সদস্য ও ভক্তরা এদিনও প্রমাণ করলেন—সেবা মানে শুধু দায়িত্ব নয়, সেবা মানে ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নির্মল প্রতিশ্রুতি।

প্রায় সত্তর জনের উপস্থিতিতে সকাল থেকেই শুরু হয় আনন্দযাত্রা। ট্রেন বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সকলে পৌঁছে যান কাকদ্বীপ–এ। সেখান থেকে কালনাগিনী নদী পেরিয়ে টোটো ও অটোযোগে পৌঁছনো হয় মন্মথপুর আশ্রমে। গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদীর শীতল হাওয়া আর সহযাত্রীদের প্রাণখোলা আলাপে যাত্রাপথই হয়ে ওঠে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
আশ্রমে পৌঁছেই আন্তরিক আপ্যায়ন—হাতে শরবত ও গরম পকোড়া। মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় যাত্রাক্লান্তি। নদীর চরে হাঁটা, গ্রামের অটোচালকদের অকৃত্রিম সহযোগিতা এবং সর্বোপরি আয়োজকদের নিঃস্বার্থ মনোভাব দিনটিকে করে তোলে স্মরণীয়। কোনও প্রকার বিনিময় ছাড়াই এমন আন্তরিক আতিথেয়তা আজকের দিনে সত্যিই বিরল।
দুপুরের আহার ছিল বিশেষ আকর্ষণ। প্রথম পাতে ঘি, স্যালাড, চচ্চড়ি, ডাল ও কপি ভাজা। এরপর রুই মাছের কালিয়া, দেশি মুরগির ঝোল, টমেটো চাটনি, পাপড়, দই ও পানতোয়া। পরিবেশনকারীদের স্নেহমাখা অনুরোধে অনেকেই হেসে বললেন, “আজ ডায়েটের কথা ভুলেই গেছি!” শেষে হাজমোলা যেন ছিল আনন্দভোজের মিষ্টি পরিসমাপ্তি।
খাওয়া-দাওয়ার পর রঙিন ছাতার তলায় আড্ডা এবং নৌকাভ্রমণ দিনটিকে এনে দেয় অন্য মাত্রা। নদীর বুকে নরম হাওয়া, হাসি-আনন্দ আর ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত—কখন যে সন্ধ্যা নেমে আসে, তা কেউ টেরই পাননি। ফিরতি পথে কাকদ্বীপ স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে সকলের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি, মনে রয়ে গেল এক টুকরো নির্মল আনন্দ।
উপস্থিত সাংবাদিকদের মতে, বছরের এই একটি দিনের জন্য তাঁরা অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ এমন সুশৃঙ্খল, হৃদয়ছোঁয়া ও সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ আয়োজন সত্যিই বিরল। মন্মথপুরের এই বনভোজন আবারও প্রমাণ করল—সেবার মধ্যেই নিহিত প্রকৃত আনন্দ, আর মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সর্বোচ্চ সাধনা।
শেষ কথা— মন্মথপুরের এই সেবার বন্ধন আরও বিস্তৃত হোক, আগামী দিনের পথচলায় হয়ে উঠুক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।
