
বিশাল বিশ্বাস- বিশেষ প্রতিবেদন : আজ বাংলার চলচ্চিত্র জগতের এক গৌরবময় দিন। স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় আজ পা দিলেন ৮৯ বছরে। প্রায় সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি শুধু নায়িকা নন, হয়ে উঠেছেন বাঙালির আবেগ, সাহস আর সংস্কৃতির প্রতীক।
১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় খুব অল্প বয়সেই থিয়েটারের মঞ্চে পা রাখেন। দেশভাগের বিভীষিকা পেরিয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেন টলিউডে। তাঁর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং আবেগের গভীরতা তাঁকে দ্রুত দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে দেয়।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে তিনি একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে পাশের বাড়ি, মাল্যদান, শাপমোচন প্রভৃতি ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল।
বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমার-এর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকমহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। রোমান্টিক দৃশ্য থেকে পারিবারিক টানাপোড়েন—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় ছিল সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী।
শুধু বড়পর্দা নয়, ছোটপর্দা এবং মঞ্চেও তিনি সমানভাবে সফল। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার বিরল ক্ষমতা তাঁকে আজও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। জীবনের নানা উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত সংগ্রাম—সবকিছুকে অতিক্রম করে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত শিল্পী কখনও থেমে থাকেন না।
রাষ্ট্র ও চলচ্চিত্র জগত থেকে একাধিক সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত এই কিংবদন্তি শিল্পী আজও নবীন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন যেন এক চলমান ইতিহাস—সংগ্রাম, সাফল্য ও নিষ্ঠার এক অনন্য কাহিনী।
৮৯তম জন্মদিনে তাঁকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। বাংলা সিনেমার আকাশে তাঁর নক্ষত্র আজও সমান উজ্জ্বল—আরও বহু বছর তিনি সুস্থ ও দীপ্ত থাকুন, এই প্রার্থনাই রইল।