
নিজস্ব সংবাদদাতা | কলকাতা
ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং হঠাৎ করেই চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় তিনি জানান, ভবিষ্যতে তিনি আর নতুন কোনও সিনেমার জন্য প্লেব্যাক গান গাইবেন না।
তার এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই স্তব্ধ হয়ে গেছে সংগীত ও চলচ্চিত্র মহল। লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ জড়িয়ে থাকা কণ্ঠ হঠাৎই সিনেমার গান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দীর্ঘ ভাবনার ফলেই সিদ্ধান্ত
অরিজিৎ সিং তার পোস্টে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও হঠাৎ আবেগের ফল নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেচিন্তেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। তার কথায়,
“এই যাত্রাটা আমার কাছে ভীষণ প্রিয় ছিল। কিন্তু এখন আমি এই অধ্যায়টি এখানেই শেষ করতে চাই।”
সংগীতশিল্পীর ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক প্লেব্যাক কাজ করতে গিয়ে তিনি সৃজনশীল ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। একই ধরনের কাঠামোয় গান গাওয়া থেকে বেরিয়ে এসে নতুন সঙ্গীত ভাবনায় নিজেকে নিয়োজিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত
তবে প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ালেও অরিজিৎ সিং সংগীতকে বিদায় জানাচ্ছেন না। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভবিষ্যতে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক, নিজস্ব সুরে গান তৈরি এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমার কাজের ব্যস্ততার কারণে এতদিন এই ধরনের সৃজনশীল কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
ভক্তদের আবেগ, শিল্পীমহলের প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের আবেগ উথলে পড়েছে। অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রিয় কণ্ঠ আর সিনেমার পর্দায় শোনা যাবে না ভেবে। আবার বহু অনুরাগী শিল্পীর এই সাহসী সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।
সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতের একাধিক শিল্পীও অরিজিতের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত শিল্পীসত্তার বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।
‘তুম হি হো’, ‘চান্না মেরেয়া’, ‘আগর তুম সাথ হো’, ‘কেশরিয়া’—এই গানগুলো শুধু জনপ্রিয় গান নয়, বরং এক প্রজন্মের আবেগ ও ভালোবাসার অংশ হয়ে উঠেছে। অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ বলিউড সংগীতকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তা অনস্বীকার্য।
প্লেব্যাক গান থেকে অরিজিৎ সিংয়ের সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন। তবে শিল্পীর নিজস্ব সৃষ্টির পথে এগিয়ে যাওয়াকে অনেকেই দেখছেন নতুন এক সৃজনশীল অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে।
সময়ই বলবে, এই বিদায় শেষ নয়—বরং আরও গভীর সুরের শুরু।