Spread the love সিনেমা ও সাহিত্য প্রতিবেদন:দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা কে. ভাগ্যরাজ আর নেই। ২০২৬ সালের ২৭ জুন, চেন্নাইয়ে ৭৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অসংখ্য কালজয়ী তামিল ছবির স্রষ্টা ভাগ্যরাজকে হিন্দি সিনেমার দর্শকরা আজও সবচেয়ে বেশি মনে রাখেন ১৯৮৬ সালের ব্লকবাস্টার ‘আখরি রাস্তা’-র জন্য। বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন এবং দক্ষিণী সিনেমার ‘কিং অব স্ক্রিনপ্লে’ কে. ভাগ্যরাজ—এই দুই মহারথীর যুগলবন্দী ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছিল। সেই ছবিই ছিল ‘আখরি রাস্তা’, যা আজও প্রতিশোধ, আবেগ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের এক কালজয়ী উদাহরণ। ১৯৮৫ সালের সুপারহিট তামিল ছবি ‘ওরু কাইধিয়িন ডায়েরি’-র অফিসিয়াল হিন্দি রিমেক ছিল ‘আখরি রাস্তা’। মূল ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন কে. ভাগ্যরাজ নিজেই। হিন্দি সংস্করণ নির্মাণের সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন—“অমিতাভ বচ্চন অভিনয় করলে তবেই আমি ছবিটি পরিচালনা করব।” অমিতাভ রাজি হতেই বলিউডে পরিচালক হিসেবে ভাগ্যরাজের রাজকীয় অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন পিতা ও পুত্র—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। একদিকে ডেভিড ডিকস্টা—এক নিরপরাধ ব্যক্তি, যিনি স্ত্রীর হত্যার মিথ্যা মামলায় ২৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করে প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসেন। অন্যদিকে তাঁরই ছেলে বিজয়—এক কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ অফিসার, যিনি অজান্তেই বাবার প্রতিশোধের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। পিতা-পুত্রের এই আদর্শগত সংঘাতই ছবির প্রাণ হয়ে ওঠে। জয়া প্রদা ও শ্রীদেবীর অভিনয় ছবিটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। ছবিটির নির্মাণ ঘিরেও রয়েছে একাধিক চমকপ্রদ ঘটনা। কে. ভাগ্যরাজ ভালো হিন্দি বলতে পারতেন না। তাই তিনি পুরো চিত্রনাট্য তামিলে লিখে পরে তা হিন্দিতে অনুবাদ করান। প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে তিনি নিজেই তামিল ভাষায় দৃশ্য অভিনয় করে অমিতাভকে বুঝিয়ে দিতেন। সেই অভিনয় দেখে অমিতাভ নিজের সংলাপে একই আবেগ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। শুটিংয়ের প্রথম দিন হাতে স্ক্রিপ্ট থাকা সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চন পরিচালককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, দৃশ্যটি কীভাবে ধারণ করতে চান। এটি ছিল নতুন পরিচালকের দক্ষতা যাচাইয়ের এক নীরব পরীক্ষা। ভাগ্যরাজের নিখুঁত শট বিভাজন ও দৃশ্য পরিকল্পনা শুনে অমিতাভ এতটাই মুগ্ধ হন যে এরপর থেকে তাঁর পরিচালনার উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। ছবিটির চিত্রগ্রহণ করেছিলেন এস. গোপাল রেড্ডি। বিশেষ করে কবরস্থানে পিতা ও পুত্রের মুখোমুখি হওয়ার দৃশ্যে আলো-ছায়ার অসাধারণ ব্যবহার এবং একই ফ্রেমে অমিতাভের দ্বৈত চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরার কৃতিত্ব আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে প্রশংসিত। আরও একটি কম জানা তথ্য হলো, শ্রীদেবীর হিন্দি উচ্চারণ সেই সময় খুব স্পষ্ট না হওয়ায় ছবিতে তাঁর সংলাপ ডাব করেছিলেন বলিউডের আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখা। ছবির প্রিভিউ দেখার পর জয়া বচ্চনের মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, “এই ছবিটি শুধু অমিতাভ বচ্চনের ছবি হিসেবে নয়, একজন পরিচালক হিসেবে কে. ভাগ্যরাজের ছবি হিসেবেই চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের সুর এবং আনন্দ বক্সীর লেখা ‘গোরি কা সাজন’-এর মতো গান ছবিটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। আশির দশকে অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুক্তি পেয়ে ‘আখরি রাস্তা’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার সাফল্য অর্জন করে এবং তাঁর অন্যতম সেরা বাণিজ্যিক ছবির মর্যাদা লাভ করে। আজ কে. ভাগ্যরাজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর লেখা অসামান্য চিত্রনাট্য, পরিচালনার মুন্সিয়ানা এবং ‘আখরি রাস্তা’-র মতো কালজয়ী সৃষ্টি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। একজন নির্মাতা চলে গেলেও তাঁর সৃষ্টির আলো সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অনন্তকাল জ্বলতে থাকবে। পোস্ট ন্যাভিগেশন চিকিৎসকের চেম্বারে অরিজিৎ! ভাইরাল ছবিতে উদ্বিগ্ন অনুরাগীরা, তবু মুখে সেই চিরচেনা হাসি ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতির পদ থেকে সরলেন রাধারমণ দাস, সমস্ত দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি