Spread the love

মুকুন্দপুরে মনিপাল হাসপাতালের উদ্যোগে বিশেষ থ্যালাসেমিয়া ক্লিনিক ও ডে-কেয়ার ওয়ার্ডের উদ্বোধন

জনরব নিউজ প্রতিবেদন:
মুকুন্দপুরে Manipal Hospitals Mukundapur–এর উদ্যোগে বুধবার, ৭ মে বিশেষ থ্যালাসেমিয়া ক্লিনিক ও ডে-কেয়ার ওয়ার্ডের উদ্বোধন করা হল। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক ছাদের নিচে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Prof. (Dr.) Rajib De, Dr. Ayanava Debgupta সহ বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। আলোচনা সভায় তাঁরা থ্যালাসেমিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

চিকিৎসকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে অন্যতম কারণ হল সচেতনতার অভাব। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা না করা, গ্রামীণ এলাকায় অল্পবয়সে বিয়ে এবং গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার জানতে পারে না যে পাত্র-পাত্রীর কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর এক বছর বয়স থেকেই রক্ত পরীক্ষা করে দেখা উচিত সে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা আক্রান্ত কিনা। একইসঙ্গে বিয়ের আগে পাত্র ও পাত্রীর রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। যদি পরীক্ষা ছাড়াই বিয়ে হয়ে যায়, তবে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করানো উচিত বলে মত চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, “শুধুমাত্র বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসে সচেতনতা পালন করলেই হবে না, সারা বছর জুড়েই মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রতিরোধ শুরু করতে হবে ভ্রূণ অবস্থাতেই।”

এদিন মনিপাল হাসপাতালের এই নতুন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডে-কেয়ার পরিষেবা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ রোগী ও পরিবারের কাছে বড় স্বস্তি এনে দেবে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

By admin

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।